
(নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট কাটেনি। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল পেতে গ্রাহকদের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা যেন শেষ হওয়ার নয়। তেলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার জেরে প্রায় প্রতিদিনই পাম্পগুলোতে ক্রেতা ও কর্মচারীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো ফিলিং স্টেশনে তেল আসবে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেই আগের দিন বিকেল থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। তেল পাওয়ার আশায় অনেক চালক রাস্তায় কিংবা পাম্পের পাশেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। ডিমলা সদর ইউনিয়নের আলম ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী শাহ আলম জানান, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। এক সপ্তাহের তেল এখন অতিরিক্ত চাহিদাই এক বেলাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। বর্তমানে বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর চাষাবাদ তেলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, “জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছি না।” কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে।
জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ঔষধ কোম্পানির ডেলিভারি কর্মী ও এনজিও কর্মীরা। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম বলেন, “সারারাত জেগেও তেল পাইনি। কাজ করতে না পারলে আয় বন্ধ হয়ে যাবে।” অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের পারিবারিক জীবন ও সন্তানদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে এই সংকটের কারণে।
অভিযোগ রয়েছে, পাম্প থেকে তেল কিনে একটি চক্র বাইরে চড়া দামে বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সচেতন মহল ‘ফুয়েল কার্ড’ পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করলে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে এবং তেলের কালোবাজারি বন্ধ হবে।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন:
“জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়া কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিমলার সকল রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরসাইকেল ও বৈধ লাইসেন্সধারী চালকদের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চরম ভোগান্তিতে থাকা ডিমলাবাসী এখন এই সংকট উত্তরণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।