
হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়ক। ব্যস্ততম এই সড়কটিতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল, একের পর এক ছুটছে যানবাহন। ইজিবাইকে চেপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন কর্মজীবীরা। কিন্তু এই সড়কের পাশে বড়খেরী ইউনিয়নের বনানী সিনেমা হলের সামনে গেলেই চোখে পড়ে এক ভিন্ন চিত্র—সড়কের ওপর পাহাড়সম বালুর বিশাল স্তূপ।
সড়কের বড় অংশ দখল করে দিনের পর দিন এভাবে বালুর ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে খোদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা।
অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যানের নাম মিজানুর রহমান। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়খেরী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনানী সিনেমা হলের সামনে আঞ্চলিক সড়ক দখল করে এই বিশাল বালুর স্তূপ রাখা হয়েছে। মূল সড়কের একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি: সরু হয়ে যাওয়া রাস্তায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
পরিবেশ দূষণ: যানবাহনের চাকার সঙ্গে এবং বাতাসে বালু উড়ে আশপাশের বাড়িঘরে পড়ছে। শুকনো মৌসুমে ধুলোবালিতে পুরো এলাকার মানুষের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, আর বৃষ্টি হলে বালু-পানি মিশে কাদার সৃষ্টি হয়ে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি: স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার ও আরাফাত রহমান জানায়:
“বাতাসে বালু উড়ে চোখে-মুখে চলে যায়। মানুষের বাড়িঘর সব ধুলোয় সাদা হয়ে গেছে। রাস্তার ওপর বালু রাখায় আমাদের স্কুলে আসা-যাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী এই প্যানেল চেয়ারম্যান নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এমনকি তার প্যানেল চেয়ারম্যান পদটিও তিনি অবৈধভাবে দখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“সড়কটি মনে হয় মানুষের চলাচলের জন্য নয়, বালুর গুদাম দেওয়ার জন্য। আমরা কিছু বললে নানা ধরনের চাপ আসে। ক্ষমতার দাপটে মেম্বার মিজান বেআইনিভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান পদটিও দখল করেছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান ও আব্দুল মান্নান জানান, একদিকে বিএনপি নেতা, অন্যদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান—এই দ্বৈত দাপটে তিনি ব্যস্ততম সড়কে বালু স্তূপ করে রেখেছেন। সাধারণ মানুষ তার ওপর চরম বিরক্ত। তবে সড়ক দখল করে এভাবে ব্যবসা চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“সড়ক দখল করে বালুর স্তূপ রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা দ্রুতই সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করব। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”