
হাবিবুর রহমান, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রতিপক্ষের হামলায় বসতঘর হারিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে একটি হতদরিদ্র পরিবার। এ ঘটনায় মামলা করায় আসামিদের হুমকি-ধমকিতে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে কমলনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ জানান উপজেলার চরফলকন জাজিরা এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও তার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম জানান, ওয়ারিশি চার শতক জমি নিয়ে প্রতিবেশী আবুল কাশেমের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ। গত বছরের ২৫ এপ্রিল স্থানীয় সালিশি বৈঠকে জমি পরিমাপ শেষে দুই শতক জমি নজরুলের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ ও সালিশদাররা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করলেও বিরোধ মেটেনি।
নজরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, গত ২ এপ্রিল সকালে ওই জমিতে বারান্দা নির্মাণ করতে গেলে আবুল কাশেম বাধা দেন। একপর্যায়ে কাশেমের লোকজন হামলা চালিয়ে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী রফিকুন নেছা, এবং তিন মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের পিটিয়ে জখম ও শ্লীলতাহানি করে।
একই দিন রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকাকালীন কাশেম ভাড়াটে লোকজন নিয়ে পুনরায় হামলা চালায়। তারা পুরো বসতঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ঘরে থাকা নগদ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ:
ঘটনার পর থানায় গেলেও পুলিশ সহযোগিতা করেনি।
উল্টো প্রতিপক্ষের মামলায় নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে মামলা করার চাপে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি।
জামিনে বেরিয়ে আসামিরা এখন পরিবারটিকে হত্যা ও গুমের হুমকি দিচ্ছে।
“হামলাকারীরা এনজিও থেকে নেওয়া আমার ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা এবং মেয়ে-জামাতার গচ্ছিত ৫ লাখ টাকা লুট করেছে। এখন টাকার চাপে আর ঘর হারানোর শোকে আমি দিশেহারা।” — নজরুল ইসলাম, ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে মো. সজীব দাবি করেন, “হামলা-লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের ফাঁসাতে প্রতিপক্ষ নাটক করছে।”
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, এ ঘটনায় দুই পক্ষই মামলা করেছে এবং তা তদন্তাধীন রয়েছে। নজরুল ইসলামের পক্ষকে অসহযোগিতার অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে বেদখল হওয়ার ভয়ে বিধ্বস্ত ভিটাতেই পলিথিন টানিয়ে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন নজরুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা কামনা করেছেন।