1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডিগ্রীরচর বড় ঈদগাঁহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতর নামাজ অনুষ্ঠিত হয় হাবিবুল্লাহনগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ইউপি সদস্য শাহাদৎ হোসেন বাঘায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মরিচপুরান ইউনিয়নবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সুলাইমান সিদ্দিকী সানি পঞ্চগড়ে অসহায়দের মাঝে ‘আগুন তোলা স্বপ্ন ছোঁয়া’ সংগঠনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ কামারের চর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ২০০ অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো ফেসবুক গ্রুপ ‘আমাদের বাঘা’ জলঢাকাবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাংবাদিক আল আমিন ইসলাম বাঘবেড় ইউনিয়নবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রহুল ইসলাম শেরপুরে দুই শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে সাবেক ছাত্রনেতা বুলবুল আহম্মেদের ঈদ উপহার বিতরণ

বাঘায় ৪৫ বছরে সাড়ে তিন শতাধিক কবর খুঁড়েছেন দুলাল ও রতন

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৯৯ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর বাঘায় বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ছেন দুলাল ও রতন
বাঘায় ৪৫ বছরে সাড়ে তিন শতাধিক কবর খুঁড়ে মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুলাল ও রতন

আবুল হাশেম
রাজশাহী ব্যুরোঃ

মৃত্যুর সংবাদ পেলেই ছুটে যান তারা। কারও বাড়িতে মরদেহ আসার পর সবার আগে হাতে তুলে নেন কোদাল, বেলচা আর খুন্তা। মরদেহের মাপ নিয়ে শুরু করেন কবর খোঁড়ার কাজ। কোনো পারিশ্রমিক নেন না। কবর খোঁড়াই যেন তাদের নেশা। এভাবেই দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর ধরে এলাকার মৃত মানুষের কবর খুঁড়ে আসছেন তারা। ইতোমধ্যে তারা সাড়ে তিন শতাধিক কবর খুঁড়েছেন।

বলছি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চকবাউসা গ্রামের মোঃ দুলাল আলী (৬৫) ও মোঃ রতন আলী (৪২)-এর কথা। দুলাল আলী দুই ছেলের জনক। জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষিকাজ কিংবা ব্যবসা করেন তারা। কিন্তু কবর খুঁড়ার কাজের জন্য কোনোদিন কারও কাছ থেকে টাকা নেননি।

জানা যায়, আড়ানী, বাউসা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় মরদেহ দাফনের কবর খুঁড়ে থাকেন দুলাল ও রতন। তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে প্রায়ই থাকেন সাবুর ছেলে রতন, মোঃ মনিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

মোঃ রতন আলী জানান, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই তিনি এ কাজ শুরু করেন। তখন তার বয়স ছিল ১৯-২০ বছর। এরপর প্রায় ৩৫ বছরে তিনি ৩০০ থেকে ৩৫০টি কবর খুঁড়েছেন। বাবার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্যই তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালে যখন অনেকেই ভয়ে মরদেহের কাছেও যেতেন না, তখনো তারা কবর খুঁড়ে গেছেন। তিনি বলেন, “আমার কোনো লোভ নেই। টাকা-পয়সা বা হাদিয়া নেই না। এমনকি দাফনের পর খেতেও যাই না। মৃত ব্যক্তির কবর খোঁড়া আমার নেশা হয়ে গেছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আখিরাতে আল্লাহ কিছু দান করলে সেটাই হবে আমাদের প্রাপ্তি।”

অন্যদিকে, দুলাল আলী জানান, প্রায় ৪৫-৫০ বছর ধরে তিনি এ কাজ করছেন। ঝড়-বৃষ্টি, রাতের অন্ধকার উপেক্ষা করেও বহুবার কবর খুঁড়তে গেছেন। কোনো কবর খুঁড়তে গিয়ে পুরোনো কঙ্কাল পাওয়া গেলে সেটি শ্রদ্ধার সঙ্গে একপাশে রেখে জায়গা করে দেন। তিনি বলেন, “কখনো ভয় পাইনি। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ আমাদের সাহায্য করেন।”

তাদের ভাষ্য, রাত-বিরাতে যে সময়ই মৃত্যু সংবাদ পান, সাথে সাথে কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হন। নিজের আত্মীয়-স্বজনকেও কবর খুঁড়ে দাফন করেছেন তারা। এতদিনে ৩৫০-এরও বেশি কবর বিনা পারিশ্রমিকে খুঁড়ে দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর মতে, তারা দিনমজুর হলেও পরোপকারী মানুষ। টাকা-পয়সা বা স্বার্থ নয়, বরং সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এ কাজ করে যাচ্ছেন।

পরিশেষে দুলাল ও রতন সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন—যতদিন বেঁচে থাকেন, যেন সুস্থ থেকে মানুষের জন্য কবর খোঁড়ার কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট