
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ভুল তথ্যের ভিত্তিতে যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে জেলা কমিটি। বিষয়টি গত ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সভাপতি রায়হান কবির ও সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃতরা হলেন — যাদুরচর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহজালাল সোহান এবং সদস্য নাজমুল হোসেন (টাইগার)।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত নেতারা সংশ্লিষ্ট জমি সংক্রান্ত গ্রাম্য বৈঠকে অংশগ্রহণ করেননি। বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল যাদুরচর ইউনিয়নের কোমরভাঙ্গী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আয়নাল মিয়ার ছেলে চাঁন মিয়ার বাড়িতে।
স্থানীয়রা বলেন, বহিষ্কারের বিষয়টি উপজেলার ভাবমূর্তি ও এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কোমরভাঙ্গী সরকার পাড়া চান মিয়ার স্ত্রী বলেন,
“যেদিন বৈঠক হয়েছিল, শাহজালাল ও নাজমুল সেখানে ছিলেন না। বরং তাদের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।”
বহিষ্কৃত নেতা শাহজালাল সোহান সংবাদদাতাকে বলেন,
“আমি দলীয় শৃঙ্খলা বিঘ্নতার সাথে জড়িত নই। বরং এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী আমাদের নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা রটাচ্ছেন। আমাদের উদ্দেশ্য সর্বদা দল ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পদত্যাগ বা বহিষ্কার স্থানীয় দলীয় কাঠামো ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে নেতাদের বহিষ্কার করা দলীয় শৃঙ্খলার পাশাপাশি স্থানীয় জনমতও ক্ষুণ্ণ করছে।
উপজেলা যুবদল ও জেলা কমিটির মধ্যে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। দলীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছে, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।