
শরিফা বেগম শিউলী
স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর নগরীর ৯নং ওয়ার্ডে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানীর বাসার অফিসকক্ষে বৈঠক চলাকালে একাধিক ব্যক্তি সেলিনা পারভীন, তার বোন শাহানাজ পারভীন এবং মা জাহানারা বেগমকে মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টু (৫০) সহ মোট আটজনকে আসামি করে রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—মো. আবু জাফর (৫৪), মো. সাদ্দাম হোসেন মানিক (২৪), মো. ইমরান হোসেন মিলন (৩২), মো. রফিকুল ইসলাম (৪৭), মো. মারুফ হোসেন (১৯), মো. আবুল বাসার (৩৯) ও মো. জুয়েল রানা (২২)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কাউন্সিলরের বাহার কাছনা তেলিটারীস্থ বাসার অফিসে শালিস বৈঠকের সময় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সেলিনা পারভীন জানান, জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। তার দাবি—জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম ভুট্টু ও তার সহযোগীরা প্রায়ই গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি দেখাতেন।
সেলিনার অভিযোগ, শালিস চলাকালে সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসামিরা হঠাৎই তাদের ওপর হামলা চালায়। তার মাকে থাপ্পড় মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ছোট বোন শাহানাজকে টেনে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। সেলিনাকে টেনে-হিঁচড়ে ২০০ গজ দূরে নিয়ে গিয়ে ব্লেড মারা, গলা চেপে ধরা ও ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সেলিনা ও তার মাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসার পর তারা বাসায় ফেরেন।
ঘটনার বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানী বলেন,
“শালিসের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাবে—এটা কল্পনাও করিনি। যারা এটা করেছে, তারা অবশ্যই অন্যায় করেছে। অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত।”
হারাগাছ থানার ওসি মো. আজাদ রহমান জানান,
“ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।”