
অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত অভিযানের সময় মোটরসাইকেলসহ পালানোর চেষ্টা করছিলেন ধৃত সাগর আলী (৩০), পিতা আফতার আলী, গ্রাম আলাইপুর, গাবতলী পাড়া, বাঘা, রাজশাহী। তিনি ইতিপূর্বে একাধিক মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে হাজতবাস করেছেন এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও আবার মাদক ব্যবসার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
পুলিশ তার মোটরসাইকেলকে থামাতে বাধ্য করে এবং স্থানীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় ধৃতকে আটক করে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে প্রথমে আবোল-তাবোল কথাবার্তা বললেও পরে নিজের জিম্মায় থাকা মাদকদ্রব্যের তথ্য স্বীকার করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সামনে ধৃতের দেহ তল্লাশি করা হয়। জিন্সের প্যান্টের ডান পকেট থেকে একটি পোটলা বের করলে তার মধ্যে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ধৃত স্বীকার করেন যে, ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন। বাঘা থানার পুলিশ জানায়, ধৃত সাগর আলী ইতিপূর্বে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক মামলাও রয়েছে। তার চলমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
বাঘা থানায় ধৃতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক) অনুযায়ী মামলা (নম্বর: ৮, তারিখ: ২২/১২/২০২৫) রুজু করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, প্রাপ্ত তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ধৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব সেরাজুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সহকারী পুলিশ সুপার চারঘাট সার্কেল এবং রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোঃ নাঈমুল হাসান এর নির্দেশনায় থানা পুলিশ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। পুলিশ বলেছে, অপরাধ দমনে এই ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় জনগণ পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে, মাদক নির্মূলে পুলিশের এই ধরনের কার্যক্রম সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুলিশও সতর্ক করেছে, মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য স্থানীয় এলাকায় কোনও অবস্থাতেই স্থান নেই এবং কেউ এ ধরনের অপরাধে লিপ্ত হলে আইন তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
এই ধরণের অভিযান বাঘা থানার অপরাধ দমন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং স্থানীয় জনগণকে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উৎসাহিত করছে।