
বরিশাল প্রতিনিধি: জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর বরিশাল ও ঢাকায় নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামি হয়েও দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল তালুকদার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ‘পলাতক’ দেখালেও সম্প্রতি নিজ বাড়িতে প্রায় দুই হাজার লোকের সমাগম ঘটিয়ে ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান করেছেন তিনি, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পলাতক আসামির বাড়িতে আওয়ামী লীগের ‘মিলন মেলা’: অভিযোগ উঠেছে, গত ১৯ জানুয়ারি মামলার এই আসামি প্রকাশ্যেই তার বাড়িতে বড় আকারের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে নিষিদ্ধঘোষিত ও বিতর্কিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিশাল মিলন মেলা বসে। জুলাই আন্দোলনের ভুক্তভোগী ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দাবি, যেখানে তাকে গ্রেফতার করার কথা, সেখানে তিনি কীভাবে এত বিশাল জনসমাগম করেন—তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
মামলার পাহাড়, তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই ইউপি চেয়ারম্যান। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা (নং-৬৬) এবং ঢাকার মিরপুর থানায় আরও একটি মামলা (নং-২৯) দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীরা বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ায় রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে ধরছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতার সম্ভব হচ্ছে না।
দখলবাজি ও দুর্নীতির পাহাড়: অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৬ বছর ক্ষমতার অপব্যবহার করে কবাই ইউনিয়নে রাজত্ব কায়েম করেছেন জহিরুল। কারখানা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখল করে গরুর খামার গড়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি নদী ভাঙনে পড়া শিয়ালঘুনি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিক্যাল কলেজের ভবনের সরকারি ইট দিয়ে তিনি নিজের খামার নির্মাণ করেছেন বলেও স্থানীয়রা জানান।
পুলিশের বক্তব্য: অভিযুক্ত জহিরুল হক বাদল তালুকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার সোহেল রানা বলেন, “কবাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যেসব থানায় মামলা হয়েছে, তারা যদি আমাদের কাছে আইনি সহায়তা বা লিখিত রিকুইজিশন পাঠায়, তবে আমরা অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করবো।”
এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মনে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তির আতঙ্ক কাজ করছে।