
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি: জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থেকেও চরম অনীহা, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাকে শেরপুর জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি টানা চার বছরেরও বেশি সময় ময়মনসিংহ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তুলনামূলকভাবে ছোট জেলা শেরপুরে পদায়নের পর থেকেই তার দায়িত্ব পালনে অনীহা ও অবহেলা দৃশ্যমান বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয়রা জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিতি এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তিনি শেরপুর ও জামালপুর জেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও শেরপুরে সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর জামালপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর পদটি বদলিজনিত কারণে শূন্য হলে তিনি প্রধান প্রকৌশলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দুই জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ৫ কর্মদিবসের মধ্যে মাত্র একদিন অফিস করেন। ওইদিন সকালে ময়মনসিংহ থেকে এসে অর্ধদিবস শেরপুর এবং অর্ধদিবস জামালপুরে অবস্থান করেন। বাকি চারদিন তাকে দুই জেলার কোনো অফিসেই পাওয়া যায় না। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি মূলত বদলির তদবিরেই ব্যস্ত থাকেন। দাপ্তরিক প্রয়োজনে তাকে ফোনে পাওয়া যায় না এবং পাওয়া গেলেও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও শেরপুর ও জামালপুর জেলা পরিষদ ও পৌরসভার এসব কমিটির সদস্য হয়েও তিনি কোনো সভায় উপস্থিত থাকেন না। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, বিল ছাড় ও বাস্তবায়নে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, যাতে দুই জেলার ঠিকাদাররা চরম বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী মেয়াদে নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।