
মাহফুজুর রহমান সাইমন : শেরপুর শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহতের স্ত্রী মার্জিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রধান আসামি মাহমুদুল হক রুবেল ছাড়াও জেলা ও উপজেলার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২৩৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৪ জনে।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“গত ২৮ জানুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে নৃশংস হামলায় মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন গুরুতর আহত হন জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম। তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।