
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদলের (৫১) আকস্মিক মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৭(১) উপ-ধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে যদি কোনো ‘বৈধভাবে মনোনীত’ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হবে এবং পরবর্তীতে এই আসনের জন্য নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন।”
দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নুরুজ্জামান বাদল স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টা ৩০ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান।
শেরপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নুরুজ্জামান বাদল (দাঁড়িপাল্লা) ছাড়াও লড়াইয়ে ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন (হাতপাখা), বাসদের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান (কাঁচি) এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা (মোটরসাইকেল)।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মূল প্রার্থীর মৃত্যুর সংবাদে পুরো নির্বাচনী এলাকায় শোকের পাশাপাশি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।