
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। নিজেদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরসহ সারাদেশে ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েও একটি আসনেও জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। প্রতিষ্ঠার চার দশকেও এমন অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হয়নি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের।
দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদি নিবাস ও জাপার ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত রংপুরে এবার বাজিমাত করেছে জামায়াতে ইসলামী। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী:
রংপুর-১: জামায়াতের রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট।
রংপুর-২: জামায়াত নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এখানে বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।
রংপুর-৩ (সদর): এই হাই-প্রোফাইল আসনে জামায়াতের মাহবুবার রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির শামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের পরাজয়। রংপুর-৩ আসনে তিনি মাত্র ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। অথচ গত নির্বাচনেও তিনি এই আসন থেকে বিজয়ী হয়ে বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন। একইভাবে গাইবান্ধা-১ আসনে দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীও তৃতীয় হয়ে মাঠ ছেড়েছেন।
নির্বাচনের দিন এক রহস্যময় আচরণ দেখা গেছে জাপা চেয়ারম্যানের মধ্যে। ভোটের আগের দিন কেন্দ্রে যাওয়ার কথা থাকলেও গতকাল দিনভর নগরীর নিউসেনপাড়া মহল্লার বাসায় অবস্থান করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে যাননি, যা রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।
মোট প্রার্থী: ১৯৬ জন।
প্রাপ্ত আসন: ০ (শূন্য)।
শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান: চেয়ারম্যান ও মহাসচিব উভয়েই নিজ আসনে তৃতীয়।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের আস্থা হারানো এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই জাতীয় পার্টির এই চরম বিপর্যয়। লাঙ্গলের দুর্গে জামায়াত ও বিএনপির এই বিশাল উত্থান উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।