
হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনেই অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বিএনপি। সবকটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এস এম মেহেদী হাছান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
বিজয়ীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের হেভিওয়েট নেতারা। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের সংসদীয় রাজনীতিতে বিএনপির আধিপত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।
| আসন ও এলাকা | বিজয়ী প্রার্থী (বিএনপি) | প্রাপ্ত ভোট | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (জামায়াত/জোট) | প্রাপ্ত ভোট |
| লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) | শাহাদাত হোসেন সেলিম | ৮৬,৮১১ | মাহবুব আলম (এনসিপি) | ৫৯,২৬৫ |
| লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদর) | আবুল খায়ের ভূঁইয়া | ১,৪৬,৩২১ | এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া | ১,৩৩,৬৯৮ |
| লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) | শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি | ১,৩৩,৭৬৫ | রেজাউল করিম | ১,১৭,৭৭৯ |
| লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) | এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান | ১,১৪,০২৬ | আশরাফুর রহমান হাফিজ উল্যা | ৭০,৭৬৫ |
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ): এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জামায়াত জোটের প্রার্থী মাহবুব আলম, যিনি পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ): জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর): বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। দুইবারের সাবেক এই সংসদ সদস্যের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৭৯ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর): উপকূলীয় এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আশরাফুর রহমান হাফিজ উল্যা পেয়েছেন ৭০ হাজার ৭৬৫ ভোট।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণার পর রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।