
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করায় আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর গ্রামে এক ব্যক্তির বসতবাড়ি ও স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা-কর্মীরা আজ শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার শিকার আব্দুল লতিফ খাঁ আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির কার্যক্রমে সক্রিয় হন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ খাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলামের ভাতিজা পলাশের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল মধ্যরাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়।
ক্ষয়ক্ষতি: হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিএনপি কার্যালয়ে হামলা: লতিফ খাঁর বাড়ির পাশাপাশি যাওয়ার পথে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়েও ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা।
“শ্রীকান্তপুর কেন্দ্রে জামায়াত পরাজিত হওয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে আমার বাড়িতে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে।” — আব্দুল লতিফ খাঁ, ভুক্তভোগী।
এই হামলার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তাঁরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে জামায়াত নেতা মাওলানা জহুরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান:
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এটিকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগ পেলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে পরাজিত করে জয়লাভ করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল।