
শরিফা বেগম শিউলী, রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে গভীর পুকুর খনন করার অপরাধে লিটু মিয়া (৪০) নামে এক ভেকু মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অনাদায়ে তাকে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় উপজেলার ১০নং মধুপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সরকারপাড়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
বদরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি জানান, সাবেক চেয়ারম্যান মৃত শাহাদতের বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে প্রায় ২০ ফুট গভীর করে পুকুর খনন করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেকু ও ৫টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেকু মালিক লিটু মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভেকু মালিক লিটু মিয়া দাবি করেন, তারা অনুমতি নিয়েই মাটি খনন করছেন এবং সেই মাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেলের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল মিয়াসহ অনেকের অভিযোগ, এই মাটি অবৈধভাবে বিভিন্ন ইটভাটা ও বসতবাড়িতে বিক্রি করা হচ্ছিল।
গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) একই স্থানে পুকুর খননের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ:
বদরগঞ্জ থানার এসআই তপন মিয়া ঘটনাস্থলে এসে সময়ক্ষেপণ করেন।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন সরকার ও মোতাহার মিয়াসহ একটি পক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকায় রফাদফা করে নামমাত্র মুচলেকা নিয়ে ভেকু ছেড়ে দেয়।
ভেকু মালিক লিটু মিয়ার দাবি, ওসি-কে ম্যানেজ করার কথা বলে আমজাদ হোসেন ও মোতাহার তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন।
অফিসার ইনচার্জের (ওসি) বক্তব্য: বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পুলিশ কোনো টাকা নেয়নি। এসআই তপন শুধু মুচলেকা নিয়ে এসেছেন। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা জানান, “প্রাথমিকভাবে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পরও শর্ত ভঙ্গ করে আবারও পুকুর খনন করায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”