
বরিশাল প্রতিনিধি
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল): বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে থামছে না ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমি খনন, অন্যের জমি দখল এবং লোহার চাকার ভেকু (মাটিকাটা মেশিন) দিয়ে কোটি টাকার সরকারি রাস্তা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের বেবাজ গ্রামে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ এর আওতায় ডিঙ্গারহাট ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে কলসকাঠী পর্যন্ত ২ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সড়ক নির্মাণ করছে ‘মোহাম্মদ ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই লোহার চাকার ভারী ভেকু মেশিন পিচ ঢালাইয়ের ওপর দিয়ে চালিয়ে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনের উদাসীনতায় সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হলেও দেখার কেউ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামি ও প্রবাসে পলাতক জামাল শরিফের অনুসারী কাওসার হাওলাদার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই চক্রটি ভেকু ভাড়া করে এনে ফসলি জমি খননসহ পাশের জমি জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে।
গৌতম দাস নামের এক ভুক্তভোগী জানান, “আমার পিছনের জমি ক্রয় করলেও হিন্দু সম্প্রদায় হওয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার সামনের জমি ভরাট করে দখল করে নিয়েছে ভূমিদস্যু কাওসার।”
মনসুর শিকদার ও হারুন গাজী জানান, দিন-রাত ভেকু চালিয়ে অন্যের জমির ফসল নষ্ট করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে হামলা ও মামলার ভয় দেখানো হয়।
ভেকু মালিক নাসির এ বিষয়ে বলেন, “আমরা ভাড়ায় এসেছি। ভাড়াটিয়া যেখানে যেতে বলে, আমাদের সেখানেই ভেকু নিয়ে যেতে হয়।” রাস্তার ক্ষতি বা ফসলি জমি নষ্টের দায় নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে:
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ বলেন, “ফসলি জমি নষ্ট করা বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাটি কাটলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদার জানান, সড়কের ওপর দিয়ে ভেকু চলাচল ও ফসলি জমি খননের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে অভিযান চলমান রয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার কেএম সোহেল রানা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা সরকারি সড়ক রক্ষা এবং ফসলি জমি পুনরুদ্ধারে দ্রুত জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।