
আবুল হাশেম রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী: শীতের আমেজ কাটতে না কাটতেই প্রকৃতিতে ফাগুনের হাওয়া। আর এই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গেই রাজশাহীর আম্রকাননগুলোতে উঁকি দিচ্ছে সোনালি মুকুল। মাঘের শেষ আর ফাল্গুনের শুরুতে আমগাছগুলো মুকুলে ভরে ওঠায় এ অঞ্চলের বাগান মালিক ও চাষিদের চোখে এখন বাম্পার ফলনের স্বপ্ন।
রাজশাহী জেলার মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট, দুর্গাপুর ও পবা উপজেলার বিভিন্ন আমবাগানে এখন সোনালি মুকুলের সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে ওঠা মুকুলের মৌ মৌ সুবাসে ভরে উঠেছে চারপাশ। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক গাছে মুকুল এসেছে। ধানের পরেই এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি আম। তাই মুকুলের এই আধিক্য দেখে কৃষকদের মনে বইছে আনন্দের জোয়ার।
বাগান মালিকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ অনেক বেশি। প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। এখন চলছে নিবিড় পরিচর্যা।
সেচ ও বালাইনাশক: পোকার আক্রমণ ও ছত্রাক থেকে মুকুল রক্ষা করতে চাষিরা নিয়মিত বালাইনাশক স্প্রে করছেন।
খরচ ও শ্রম: ভালো মানের ফলন পেতে আগামী তিন মাসে অন্তত ৬ থেকে ৭ বার ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়।
প্রাকৃতিক শঙ্কা: মুকুল ভালো হলেও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে। কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি না হলে এবার রেকর্ড পরিমাণ ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা।
“প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। বর্তমানে যেরকম আবহাওয়া বিরাজ করছে, তা মুকুলের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। এই অবস্থা বজায় থাকলে ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।” — ড. মো. শফিকুল ইসলাম, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র।
রাজশাহী কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী:
চাষের জমি: এ বছর প্রায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন।
বাণিজ্যিক বিস্তার: বর্তমানে দেশের ২৩টি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হলেও প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহী।
দেশের মোট আম উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে ‘আমের রাজধানী’ খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। তবে উৎপাদনে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে নওগাঁ। অন্যদিকে, মৌসুমের প্রথম আম পাকে সাতক্ষীরায়, যেখান থেকে প্রতি বছর ইউরোপের বাজারে আম রপ্তানি শুরু হয়।
অনুকূল আবহাওয়া এবং চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবার রাজশাহীর আম অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়িয়ে সোনালি মুকুলগুলো গুটিতে রূপান্তরিত হলেই পূর্ণতা পাবে কৃষকের স্বপ্ন।