
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজশাহী: সমাজে নানা প্রতিকূলতা, বৈষম্য ও জীবনযুদ্ধের কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে যারা নিজেদের অদম্য সাহস ও কর্মদক্ষতায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন, সেইসব ‘অদম্য নারী’দের সম্মানিত করলো রাজশাহী বিভাগ। নারীর অগ্রযাত্রা ও সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিতে এ বছরই দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার কার্যক্রম।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৪০ জন নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ পাঁচজনকে বিভাগীয় পর্যায়ের ‘অদম্য নারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বিভাগীয় পর্যায়ে মোট ৪০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে ১০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়। তাদের মধ্যে চূড়ান্তভাবে বিজয়ীরা হলেন:
শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য: রিজু তামান্না (শেরপুর উপজেলা)।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান: সুমাইয়া ইসলাম (শিবগঞ্জ উপজেলা)।
অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী: মোছা. লতা খাতুন (পাবনা সদর উপজেলা)।
সফল জননী: রাশেদা বেগম (মোহনপুর উপজেলা)।
নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে নতুন জীবন: রাজিয়া খাতুন (চারঘাট উপজেলা)।
“নারীরা আজ শুধু পরিবার নয়, রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা এগিয়ে চলেছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া মানে পুরো সমাজকে এগিয়ে নেওয়া।” — ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ আরও বলেন, অদম্য নারীদের এই জীবনসংগ্রাম ও জয়ের গল্পগুলো নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি ও প্রচার করা হবে যাতে আগামী প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হয়। নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী রিজু তামান্না বলেন, “নারীরা সুযোগ পেলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম।” অন্যদিকে সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা সুমাইয়া ইসলাম বলেন, “নারীরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সমাজের জন্য কিছু করার বিশ্বাস থেকেই আমি কাজ করছি।”
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
মোহাম্মদ শাহজাহান, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (রাজশাহী রেঞ্জ)।
আফিয়া আখতার, জেলা প্রশাসক।
মো. রিয়াজুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনির হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, এই সম্মাননা সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মমর্যাদা ও নেতৃত্বের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।