
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজশাহী: দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ইতিমধ্যে ছয়টিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে এখনও প্রশাসক নিয়োগ হয়নি রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক)। এই শূন্যপদ পূরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন অন্তত পাঁচজন হেভিওয়েট বিএনপি নেতা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নেতারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন:
মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক মেয়র। ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে বারবার বরখাস্ত ও কারাবন্দী থাকতে হয়েছে। অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।
মামুন অর রশিদ: রাজশাহী মহানগর বিএনপির বর্তমান সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন, দল যদি তাকে যোগ্য মনে করে, তবে এই গুরুদায়িত্ব পালনে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ওয়ালিউল হক রানা: মহানগর বিএনপির সহসভাপতি। তিনি সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। মেয়র পদে মনোনয়ন অথবা প্রশাসক—উভয় ক্ষেত্রেই তার প্রবল আগ্রহ রয়েছে।
মাহফুজুর রহমান রিটন: মহানগর সাধারণ সম্পাদক। জনসেবার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করা এই নেতা জানান, প্রশাসক পদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত।
আবুল কালাম আজাদ সুইট: সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে যুবদলে সক্রিয়। প্রশাসক পদে তার আগ্রহ থাকলেও তিনি সাবেক মেয়র বুলবুলকে সম্মান দেওয়াকে রাজনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত মনে করছেন।
“রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বিএনপির কেউ একজন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাবেন—এমন গুঞ্জন জোরালো হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন লবিংয়ে ব্যস্ত।”
মনোনয়ন প্রত্যাশী এসব নেতা বর্তমানে দুই মুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন। কেউ সরাসরি ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় লবিং সামলাচ্ছেন, আবার কেউ রাজশাহী থেকেই হাইকমান্ডের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যেও এই নিয়োগ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি যেমন চলছে, তেমনি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রশাসকের চেয়ারে বসা মানেই সাংগঠনিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। ফলে রাজশাহী বিএনপির শীর্ষ এই পাঁচ নেতার মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের আস্থা অর্জন করে চেয়ারে বসেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে নগরবাসী।