
মাসুদ রানা, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জামালপুর: সরিষাবাড়ী থেকে বকশীগঞ্জ—পুরো জামালপুর জেলায় মূলধারার সাংবাদিকতা আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। একদিকে প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ধারী একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তি অপকর্মের ঢাল হিসেবে এই পবিত্র পেশাকে ব্যবহার করছে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের মর্যাদা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলাজুড়ে একটি চক্র ভুয়া পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, রেলের টিকিট কালোবাজারি, জমি দখল, এমনকি মাদক ও নারী ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে দালালি এবং তদবির বাণিজ্য ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক সময় খোদ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এই ভুয়া সাংবাদিকদের অপকর্মের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে মূলধারার সংবাদকর্মীদের। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা সাধারণ মানুষের সন্দেহ ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি জেলায় এক ভুয়া সাংবাদিকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। এই ঘটনা জেলায় কর্মরত সংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। সাংবাদিক পরিচয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এসব অপরাধ চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব স্থানীয় প্রশাসন। সচেতন মহলের প্রশ্ন—
প্রশাসন কি সত্যিই এই চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত নয়?
নাকি প্রভাবশালী কোনো মহলের ছত্রছায়ায় এসব অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে?
দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে কেন এই দীর্ঘসূত্রতা?
জেলার সিনিয়র সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, এখনই লাগাম না টানলে সাংবাদিকতা পেশার আর কোনো মর্যাদা অবশিষ্ট থাকবে না। তাদের দাবি: ১. দ্রুততম সময়ে ভুয়া পরিচয়ধারী ও অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। ২. জেলা তথ্য অফিস ও প্রেসক্লাবগুলোর সমন্বয়ে সংবাদকর্মীদের ডাটাবেজ তৈরি এবং পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই করা। ৩. স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।