
আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজশাহী: রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ লড়াই, ত্যাগ ও আপসহীন নেতৃত্বের এক পরিচিত নাম মাহফুজুর রহমান রিটন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও মাঠ না ছাড়া এই নেতাকে নিয়ে এবার শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে তাকেই দেখতে চাইছেন নগরবাসীর একটি বড় অংশ।
মাহফুজুর রহমান রিটনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদল থেকে। সেখানে তিনি ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে সফলতার পরিচয় দেন। পরে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কলেজ ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে দ্রুতই তিনি নেতাকর্মীদের হৃদয়ে স্থান করে নেন।
ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের অবস্থান সংহত করেন। এরপর যুবরাজনীতিতে এসে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবেও তার সাংগঠনিক দক্ষতা সর্বজনস্বীকৃত।
বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের মধ্যেও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
সম্প্রতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মাহফুজুর রহমান রিটনের নাম নগরীর বিভিন্ন মহলে বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। সমর্থকদের দাবি:
মাঠের অভিজ্ঞতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে অবগত।
উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা: নগরীর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তার মতো একজন মাঠকেন্দ্রিক নেতার প্রয়োজন।
নাগরিক সেবা: সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ থাকায় নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
রাসিকের প্রশাসক হিসেবে আলোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন,
“আমি সবসময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করেছি। ব্যক্তিগত পদ-পদবি আমার লক্ষ্য নয়। তবে দল এবং জনগণ যদি মনে করে আমি দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত, তবে আমি সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রাজশাহী আমার প্রাণের শহর। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলে নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পরিচ্ছন্নতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম অগ্রাধিকার। আমি বিশ্বাস করি, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নগর পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
রাজশাহীর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাহফুজুর রহমান রিটনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয় যদি প্রশাসনিক দায়িত্বে ঘটে, তবে তা নগরীর সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার করবে। দল এবং সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।