
আন্তর্জাতিক ডেস্ক দখলদার ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে চালানো এই আকস্মিক ও তীব্র হামলায় খামেনির বাসভবনসহ দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বাসভবনগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার ধরণ বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা একে একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সামরিক আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে খামেনির প্রাসাদের ধ্বংসস্তূপ দৃশ্যমান হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, মূল স্থাপনাটি সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়েছে এবং আশেপাশে কালো ধোঁয়া ও বিস্ফোরণের চিহ্ন রয়েছে। বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় স্থাপনাটির কাঠামো মাটির সাথে মিশে গেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এদিকে, হামলার ভয়াবহতার মধ্যেই ইরানের হোরমোজগান প্রদেশের মিনাব এলাকায় মেয়েদের একটি স্কুলে বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের খবর অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা কম জানানো হলেও পরবর্তী তল্লাশিতে তা ৪০ জনে পৌঁছায় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আকস্মিক এই ভয়াবহ হামলা এবং বেসামরিক স্থাপনায় হতাহতের ঘটনায় ইরানে গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্র।