
পি. কে রায়, বিশেষ প্রতিনিধি দিনাজপুর: ভরা বোরো মৌসুমে দিনাজপুরের মোহনপুরে আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাবারড্যামটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। রাবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফুটো হয়ে যাওয়ায় নদীতে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চরম সেচ সংকটে পড়েছেন দুই উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক। তবে কৃষকদের ভোগান্তি লাঘবে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে রাবার প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
দিনাজপুর সদর ও চিরিরবন্দর উপজেলার সীমানায় অবস্থিত ১৩৫ মিটার দীর্ঘ এই রাবারড্যামটি এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মিত। এটি চালুর পর থেকে ২৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ৮০টি গ্রামের ৫ লাখ মানুষ উপকৃত হয়ে আসছিলেন। গত তিন বছর ধরে ড্যামটির দুটি স্থানে প্রায় ৪ ফুট জায়গা জুড়ে রাবার ফুটো হয়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষ কয়েকবার তালি দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করলেও তা টেকসই হয়নি।
বর্তমানে বোরো আবাদের ভরা মৌসুম চললেও নদী থেকে সেচের পানি না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষক আজিজার রহমান (চিরিরবন্দর): “আড়াই বিঘা জমিতে আবাদের প্রস্তুতি নিয়েছি, কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় জমি প্রস্তুত করতে পারছি না।”
কৃষক সাহের আলী (মোহনপুর): “গত ৩-৪ বছর ধরেই এই অবস্থা। এখন বাধ্য হয়ে বেশি টাকা খরচ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে।”
১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি একসময় এ অঞ্চলের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। বর্তমানে চীন থেকে নতুন রাবার এনে তা প্রতিস্থাপনের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন’।
“প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। মানসম্মত কাজের জন্য আমাদের সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
— ইমাম হোসেন, কর্মকর্তা, প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন।
এলজিইডি সদর উপজেলা প্রকৌশলী রিশাদ জামান সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, “গত ৩ বছর ধরে রাবার ফুটো থাকায় কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছিল না। দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে কৃষকরা সুফল পাবেন।”
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
| অবস্থান | আত্রাই নদী (সদর ও চিরিরবন্দর সীমানা) |
| দৈর্ঘ্য | ১৩৫ মিটার |
| উপকারভোগী | ৮০টি গ্রাম, প্রায় ৫ লাখ মানুষ |
| নির্মাণ ব্যয় | ১৬ কোটি টাকা |
| বর্তমান অবস্থা | রাবার প্রতিস্থাপনের কাজ চলমান |