1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুর সদরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির জমকালো উদ্বোধন রাণীনগরে হাটে কোরবানির গরু কিনতে এসে ক্রেতার এক লাখ টাকা খোয়া আস্থার প্রতিচ্ছবি ইউএনও মিল্টন চন্দ্র পাল: কালভার্ট থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র, সর্বত্রই কড়া নজর পঞ্চগড়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের সুফল নিয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত রাণীনগরে সরকারিভাবে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বাঘায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন: আছান আলীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘স্বপ্ননীড়’-এর চাবি শেরপুরের নকলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন; প্রধান অতিথি ফাহিম চৌধুরী মধুপুরে দুই মাদক কারবারিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বকশীগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ অসুস্থতার অজুহাতে ছুটির অভিযোগ: ক্লাসের বদলে দেখা মিলল আদালতে! বাঘায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে এমপি চাঁদ: নগদ অর্থ সহায়তা ও সরকারি ঘর প্রদানের আশ্বাস

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে
প্রতিকী ছবি

ইবতেশাম রহমান সায়না

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন শিল্ড অফ জুডাহ’ শুরু হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ থাকলেও, এই মজুদ ফুরিয়ে গেলে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে দেশীয় অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতে সাশ্রয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও বিকল্প জ্বালানি

জ্বালানি সংকট রুখতে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা।

  • গৃহস্থালি সচেতনতা: বাসাবাড়িতে অপ্রয়োজনীয় লাইট-ফ্যান বন্ধ রাখা এবং এলইডি বাল্ব ব্যবহার করে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব।

  • সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ: নির্দিষ্ট সময়ের পর অফিসগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে কঠোর হতে হবে।

  • নবায়নযোগ্য শক্তি: সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।

খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আধুনিকায়ন

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর তথ্যমতে, আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই (৫৫-৬৭%) প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ২০-২৭% ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল। এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে হলে: ১. বঙ্গোপসাগরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। ২. কয়লা, এলএনজি ও পারমাণবিক শক্তির সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ৩. পুরোনো ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত আধুনিকায়ন করতে হবে যাতে জ্বালানি অপচয় কমে।

সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব

আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ:

  • শিল্প খাতে ধস: গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি আয় কমবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তুলবে।

  • সামাজিক অস্থিরতা: দীর্ঘমেয়াদী লোডশেডিং বা রেশনিং সাধারণ জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিতে পারে, যার ফলে সামাজিক অসন্তোষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নাগরিক দায়িত্ব ও উপসংহার

একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতি এবং অপচয় রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সাশ্রয়ের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতিতে সহযোগিতা করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে, আমাদের আজকের সামান্য সচেতনতাই পারে আগামীর বড় বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষা করতে।


লেখক: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

সুত্রঃব্রেকিংনিউজ/আইএস/ওডি

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট