1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে শিশু অপহরণ: প্রধান আসামি আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার নালিতাবাড়ীতে পিকআপভর্তি ২৭৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, গ্রেফতার ৩ নীলফামারী জেলার শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড নির্বাচিত হলেন ডিমলার রওশন কবির ঝিনাইগাতীতে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন জোরদারে এমসিজিএলের ফান্ড মোবিলাইজেশন সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার ও সনদ বিতরণ মধুপুরে কারিতাসের দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য বৈচিত্র্য মেলা অনুষ্ঠিত মধুপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ মধুপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ জলঢাকায় চাহিদার অর্ধেক মিলছে বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন

রাজশাহীতে সাংবাদিক নেতার ওপর হামলা: মূল আসামিরা অধরা, পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীতে সাংবাদিক নেতার ওপর হামলা: মূল আসামিরা অধরা, পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ

আবুল হাশেম, রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হতে চললেও প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের এই রহস্যজনক ভূমিকা এবং মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারে অনীহা নিয়ে রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আসামিরা

সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজসহ হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ‘পলাতক’ বলছে। এমনকি আসামিদের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য দিলেও পুলিশ অভিযানে অনীহা প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই হামলা চালানো হয়েছে। অপরাধীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার কথা স্বীকার করে দম্ভোক্তি দিচ্ছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের দাবি, হামলাকারীরা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার দাপট দেখাচ্ছে।

বোয়ালিয়া ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের ভূমিকা এখন জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, ওসি সক্রিয় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখাচ্ছেন না। ওসি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এজাহারনামীয় আসামি ছাড়া অন্য কাউকে (অজ্ঞাতনামা) এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়। তবে ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে ওসির এমন অনীহাকে মামলার তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন সাংবাদিকরা।

কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

প্রেসক্লাবের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। ঈদের আগে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া না হলেও, ঈদের পর থেকে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

চাঁদা দাবি ও নৃশংস হামলার বর্ণনা

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজসহ তাদের সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল সন্ত্রাসী ক্লাবে তাণ্ডব চালায়।

হামলা চলাকালীন প্রধান অভিযুক্ত মিলন পিস্তল বের করে সভাপতির মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অন্য এক সন্ত্রাসী সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। এতে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ১৩টি সেলাই দিতে হয়। তিনি বর্তমানে নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন।

ফ্যাসিস্টের দোসর তকমা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় তাদের ভূমিকা ছিল সাধারণ মানুষের বিপক্ষে। ৫ আগস্টের হামলায় তাদের নামে মামলা থাকলেও তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। সম্প্রতি দু-একজন বিতর্কিত নেতার ছত্রছায়ায় তারা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা এখন এজাহারনামীয় আসামি ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারছি না।”

দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য রাজশাহী সাংবাদিক সমাজ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট