
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলায় ছেলের চুরির অপবাদ ও লোকলজ্জা সইতে না পেরে এক মায়ের আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিল হাটা গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার গভীর রাতে খলিল হাটা গ্রামে গরু চুরি করতে গিয়ে তিন যুবক স্থানীয়দের হাতে নাতে ধরা পড়ে। আটককৃতদের মধ্যে সুজন মিয়া নামে এক যুবকও ছিল। গ্রামবাসী তাদের আটকে রেখে আজ বৃহস্পতিবার সকালে গ্রাম্য সালিশি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ছেলের চুরির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এবং লোকমুখে সমালোচনা শুনে সুজন মিয়ার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছেলের এমন অপরাধের খবর পাওয়ার পর তীব্র লজ্জা ও অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে উদ্ধার করার আগেই তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।
এদিকে আটক তিন যুবককে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনো উপস্থিতি দেখা না যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ছেলের সামান্য ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে এক মায়ের এমন করুণ মৃত্যুতে খলিল হাটা গ্রামজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কীভাবে একটি সাজানো সংসার ও জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে— এই ঘটনা তারই এক চরম দৃষ্টান্ত।