
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার (পঞ্চগড়):
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সম্পন্ন হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের বিল বেআইনিভাবে উত্তোলন ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আফরোজ শাহীন খসরু এবং পিআইও অফিসের সাবেক অফিস সহকারী মোঃ জহির হোসেনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রবি ট্রেডার্স’-এর প্রোপাইটর মোঃ রবিউল ইসলাম বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৭৯ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করেন। কাজের অর্ধেক বিল পরিশোধ করা হলেও বাকি অর্থ ছাড় নিয়ে শুরু হয় জটিলতা।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার রবিউল ইসলামের দাবি, কমিশন বাদে তার পাওনা ছিল ৩০ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু তার অজান্তেই ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৩ লাখ টাকা জমা দেওয়া হলেও বাকি প্রায় ১২ লাখ টাকা এখনও পাননি তিনি।
ঠিকাদার রবিউল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বিল পাসের জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ইউএনও কার্যালয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বারবার অফিসে ঘোরানো এবং বিলে স্বাক্ষর নিতে তাকে ঢাকা পর্যন্ত যেতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইউএনও সরাসরি টাকা না নিলেও অফিস সহকারী জহির হোসেনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করতেন। একটি কল রেকর্ডিংয়ের বরাত দিয়ে তিনি এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আফরোজ শাহীন খসরু বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাবেক অফিস সহকারী জহির হোসেন নিজের সম্পৃক্ততার আভাস দিয়ে বলেন, “এটা তেমন বড় কোনো বিষয় নয়। আমরা একসাথে কাজ করতাম। আমারই ভুল হয়েছে। বিষয়টি আমরা নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেব।”
সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, প্রায়ই কর্মকর্তাদের দুর্নীতির শাস্তি হিসেবে শুধু ‘বদলি’ করা হয়, যা পর্যাপ্ত নয়। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।