
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাকেরগঞ্জ | ৩ এপ্রিল, ২০২৬
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল): বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সেবার বদলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এক শ্রেণির দালাল চক্র ও ক্লিনিক মালিকদের সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছেন গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা অসহায় রোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এখানে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য।
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে:
দালাল চক্রের সক্রিয়তা: বাকেরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের সামনে ওত পেতে থাকে একদল দালাল। তারা রোগীদের উন্নত সেবার প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। বিনিময়ে ক্লিনিকগুলো দালালদের মোটা অংকের কমিশন প্রদান করে।
অতিরিক্ত ফি ও অপ্রয়োজনীয় টেস্ট: সরকারি তালিকার তোয়াক্কা না করে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। বিল বাড়ানোর জন্য অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা (টেস্ট) চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষ জনবলের অভাব: অধিকাংশ ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক ডাক্তার বা অভিজ্ঞ নার্স নেই। অদক্ষ লোকবল দিয়ে প্যাথলজি ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটার পরিচালনা করায় বাড়ছে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি।
অমানবিক আচরণ: কলসকাঠী, পাদ্রীশিবপুর ও রঙ্গশ্রীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা দিতে দেরি হলে বা বিল পরিশোধ করতে না পারলে রোগীকে আটকে রাখার মতো অমানবিক ঘটনাও ঘটছে।
নামমাত্র লাইসেন্স নিয়ে অনেক ক্লিনিক নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জীবনরক্ষাকারী প্যাথলজি রিপোর্টগুলোও অনেক ক্ষেত্রে মনগড়াভাবে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
সাধারণ মানুষের দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকি না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব অবৈধ ও অনিয়মকারী ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ভুক্তভোগী এক স্বজন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, হাসপাতালে আসি সুচিকিৎসার জন্য। কিন্তু দালালের পাল্লায় পড়ে ক্লিনিকে গিয়ে ভিটেমাটি হারানোর দশা হচ্ছে। দেখার কি কেউ নেই?”