
হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর:
বিয়ের মেহেদির রঙ মোছার আগেই মেঘনা কেড়ে নিল তরুণ জেলে স্বপন হোসেনের (২২) প্রাণ। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া নতুন জীবনের এমন করুণ সমাপ্তিতে পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে উপজেলার নাসিরগঞ্জ বাতির খাল মাছ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় স্বপনের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত স্বপন উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাবুলের ছেলে।
এর আগে গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে নবীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মই জাল দিয়ে চিংড়ি রেণু ধরতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে নদীতে জাল ফেলার পর সাঁতরে সেটি টানার চেষ্টা করছিলেন স্বপন। এ সময় অসাবধানতাবশত তার পায়ে জালের রশি পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি গভীর পানিতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে কমলনগর ফায়ার সার্ভিস এবং চাঁদপুর থেকে আসা একটি ডুবুরি দল টানা দুই দিন উদ্ধার অভিযান চালালেও প্রথম দিকে তার কোনো সন্ধান পায়নি। অবশেষে আজ দুপুরে নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
স্বপনের অকাল মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের আর্তনাদ। মাত্র ১৪ দিন আগে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে আক্তারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। স্বামীকে হারিয়ে নববধূ আখি আক্তার এখন নির্বাক। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। তার বিলাপ দেখে উপস্থিত গ্রামবাসীও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। স্বজনরা জানান, বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মাত্র দুই সপ্তাহেই যে এমন বিষাদে রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
মজুচৌধুরীর হাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আজিজুল হক জানান, নিখোঁজ জেলের মরদেহ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আজ সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বপনের মরদেহ দাফন করার কথা রয়েছে। তার এই মৃত্যুতে পুরো চরলরেন্স ইউনিয়নে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীতে রেণু সংগ্রহের সময় জেলেদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।