
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর
শেরপুরের নকলায় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙ ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি ও বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল আইসক্রিম জব্দ করে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট:
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে নকলা উপজেলার গণপদ্দী ইউনিয়নের খারজান মধ্যপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নকলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি।
জালিয়াতির চিত্র:
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই কারখানায় কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছিল। বিশেষ করে শিশুদের আকৃষ্ট করতে আইসক্রিমে এমন সব রাসায়নিক রঙ ও উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব আইসক্রিম দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও লিভারের সমস্যার কারণ হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আইনি ব্যবস্থা ও দণ্ড:
অনুমোদনহীন ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কারখানার মালিককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার পাশাপাশি কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েক হাজার পিস ভেজাল আইসক্রিম তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়। আদালত ওই ব্যবসায়ীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে দেন।
প্রশাসনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি গণমাধ্যমকে বলেন, “একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মুনাফার লোভে মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। শিশুদের জন্য এসব আইসক্রিম অত্যন্ত বিপজ্জনক। জনস্বার্থে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান চলাকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।