
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার জালাসি এলাকায় ফুটবল খেলার বল পাশের একটি বাড়িতে পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো— ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রেজওয়ান খান অপূর্ব ও মিম হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাওহীদ হাসান আশিক। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে টিফিন বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বলটি অসাবধানতাবশত বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বাড়ির ভেতরে গিয়ে পড়ে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই বাড়ির মালিক জয়তুন বেগম। তিনি লাঠি নিয়ে মাঠে এসে শিশুদের ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। শুধু তাই নয়, শিশুদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এতে তিন শিক্ষার্থী শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা জান্নাতুল পারভীন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার্থীরা টিফিনের সময় নিয়মিত মাঠে খেলাধুলা করে। খেলার বলটি পাশের বাড়িতে যাওয়ার পর ওই নারী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি এবং সাথে সাথে তাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি। এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষী নারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি আমরা।”
আহত শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিকের বড় ভাই আবির বলেন, “কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে এমন হিংস্র আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে ভয় পেতে পারে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জয়তুন বেগমের স্বামী হাচান আলি মারধরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমার স্ত্রী জানিয়েছে, ফুটবলটি সরাসরি আমাদের রান্নাঘরে গিয়ে পড়েছিল। এতে রাগান্বিত হয়ে সে রান্নার কাজে ব্যবহৃত একটি লাঠি দিয়ে শিশুদের আঘাত করেছে।”
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার বা স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”