1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নালিতাবাড়ীতে পিকআপভর্তি ২৭৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, গ্রেফতার ৩ নীলফামারী জেলার শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড নির্বাচিত হলেন ডিমলার রওশন কবির ঝিনাইগাতীতে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন জোরদারে এমসিজিএলের ফান্ড মোবিলাইজেশন সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার ও সনদ বিতরণ মধুপুরে কারিতাসের দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য বৈচিত্র্য মেলা অনুষ্ঠিত মধুপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ মধুপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ জলঢাকায় চাহিদার অর্ধেক মিলছে বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ডিমলায় পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত, কৃষি প্রযুক্তি প্রসারে নতুন প্রত্যাশা

ঝালমুড়ি বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছেন হেলাল মিয়া

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২০৮ বার পড়া হয়েছে
নান্দাইলের রসুলপুর গ্রামের হেলাল মিয়া ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন
হেলাল মিয়া শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও ঝালমুড়ি বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন। স্থানীয়রা মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফরিদ মিয়া, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রসুলপুর গ্রামের হেলাল মিয়া (৩৭) শারীরিক অসুস্থতার কারণে দিনমজুরি বা ভারী পরিশ্রমের কাজ করতে পারছেন না। এক সময় তিনি দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে গলায় টিউমার অপারেশনের পর শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় বর্তমানে সংসার চালানোর একমাত্র উপায় হিসেবে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন।

হেলাল মিয়ার পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, বাকি চারজনকে নিয়ে প্রতিদিনই সংসার চালাতে হয় তাকে। তিনি প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার ঝালমুড়ি বিক্রি করেন, যার খরচ বাদে হাতে থাকে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এ অল্প টাকায় পরিবারের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

হেলাল মিয়া জানান, “ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালানো সম্ভব হলেও তা খুবই সীমিত। সামান্য লাভের টাকায় পরিবারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। গলায় অপারেশনের পর এখন আর আগের মতো ভারি কাজ করতে পারি না। বাধ্য হয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করছি। যদি সরকারি কোনো সহযোগিতা পেতাম, একটা ছোট দোকান দেয়ার মাধ্যমে পরিবারকে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখা সম্ভব হতো।”

গ্রামবাসীও হেলাল মিয়ার পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল চরিত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন বা সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে হেলাল মিয়ার মতো অসহায় মানুষরা আবারও স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, হেলাল মিয়ার মতো মানুষদের প্রতি সমাজ ও সরকারের সহানুভূতিশীল মনোভাব থাকলে তাদের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। হেলাল মিয়ার কষ্ট এবং সীমিত আয়ের কথা তুলে ধরে গ্রামবাসী মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

হেলাল মিয়ার দৈনন্দিন সংগ্রাম ও পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার এই গল্প একদিকে মানবিক সহানুভূতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সমাজের বিত্তবান ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ছাড়া অসহায় মানুষদের জীবনযাত্রা কতটা কঠিন হতে পারে তা প্রমাণ করেছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, কেউ যদি এগিয়ে আসে এবং ছোটখাটো অর্থিক বা পণ্য সহযোগিতা দেয়, তবে হেলাল মিয়ার পরিবারের জীবনের মান বৃদ্ধি পাবে।

এই পরিস্থিতি কেবল হেলাল মিয়া নয়, বরং অনেক অসহায় পরিবারের বাস্তব প্রতিচ্ছবি, যারা শারীরিক বা আর্থিক সমস্যার কারণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সমাজের মানুষের সহানুভূতি ও প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের পরিবারদের জীবনমান উন্নয়নের সম্ভাবনা কম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট