
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় মেহেদী হাসান (২৯) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পারইল পশ্চিম ফকিরপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী ওই গ্রামের মখলেছার রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক দাবি অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পারিবারিক কলহের জেরে মেহেদী বুধবার রাতে নিজের জীবনের ইতি টেনেছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর সবাই ঘুমিয়ে গেলে তিনি বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে আমগাছের ডালে দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে মেহেদীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। পরে বিষয়টি রাণীনগর থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের দুলাভাই কামাল হোসেন জানান, “কিছুদিন ধরে মেহেদী ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়ে মনোমালিন্য চলছিল। সম্প্রতি এক ঝগড়ার পর তার স্ত্রী অভিমান করে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকেই মেহেদী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সম্ভবত সেই কষ্ট থেকেই সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
এদিকে স্থানীয়রা জানান, মেহেদী ছিলেন শান্ত-স্বভাবের ও পরিশ্রমী যুবক। তবে সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি চুপচাপ ও চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের ধারণা, মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেহেদী হাসান আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি বলে ওসি জানান। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরা বলেন, পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপ থেকে সৃষ্ট আত্মহত্যার এমন ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান। তারা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া, ধৈর্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।