1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নালিতাবাড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে যুবদল-ছাত্রদলের বিশাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ শেরপুরে ব্র্যাকের ‘স্বপ্ন সারথী’ প্রকল্পের ১১ সদস্যের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ গাসিক ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পেল মেসার্স জান্নাতুল এন্টারপ্রাইজ মধুপুরে ৩৯ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা, কার্যক্রমের উদ্বোধন মধুপুরে ২০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মনসুর গ্রেফতার জামালপুর সীমান্তে শূন্যরেখা থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে ভারতীয়রা! ৪নং চর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত চকরাজাপুর বাজার রোড এসবি করণ: এমপিকে ধন্যবাদ জানাল এলাকাবাসী রাজশাহীর আবাসন খাতে চরম বিপর্যয়: কর ও সুদের হার না কমালে দেউলিয়া হবেন ব্যবসায়ীরা বকশীগঞ্জে বন্য হাতির আক্রমণে বৃদ্ধের মৃত্যু, পাহাড়ে মিলল ক্ষতবিক্ষত মরদেহ

পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে বিভিন্ন বাহিনীর সক্রিয়তায় বাড়ছে শঙ্কা

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর বাঘা ও দৌলতপুরের পদ্মা চরাঞ্চলে সংঘর্ষ পরবর্তী দৃশ্য
পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারের কান্না ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল — ছবি: নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজশাহী ব্যুরোঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের লালপুর ও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি পদ্মার চরে খড় কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার পর থেকে এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা বিরাজ করছে।

গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ১৪ হাজার গ্রামের পদ্মার নতুন চরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খানপুর এলাকার আমান মণ্ডল ও নাজমুল মণ্ডল এবং ভেড়ামারার লিটন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মুন্তাজ মণ্ডল ও রাকিব মণ্ডল তাদের লোকজন নিয়ে চরে খড় কাটতে গেলে প্রতিপক্ষের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আমান ও নাজমুল। গুরুতর আহত হন মুন্তাজ ও রাকিব। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন, গুলিবর্ষণকারীরা কথিত কাকন বাহিনী-এর সদস্য।
এই ঘটনায় নিহত আমান মণ্ডলের পিতা মিনাজ মণ্ডল বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মুজা সর্দার নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার বিচার দাবিতে গত ৩১ অক্টোবর দুপুরে খানপুর বাজারে নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার ও চরাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মার চরে শুধু কাকন বাহিনী নয়, সক্রিয় রয়েছে মণ্ডল, টুকু, সাইদ, লালচাঁদ, রাখি, কাইগি, রাজ্জাক ও বাহান্ন বাহিনী। এসব বাহিনীর মধ্যে বিরোধের মূল কারণ জমি দখল ও বালুমহল নিয়ন্ত্রণ। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পদ্মার বালুমহল দখল নিয়েই মূল সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে ‘মোল্লা ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় বৈধভাবে বালুমহলটি পরিচালনা করছে, যেখানে কাকনের ২০% শেয়ার রয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয়ভাবে কাকনকে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেও পরিচিত বলে দাবি করা হয়।

কাকন বাহিনীর সদস্য শুকুর আলী জানান, “বিএনপি নেতা পিন্টু চাঁদা দাবি করলে কাকন না দেওয়ায় বিরোধ শুরু হয়। পরে পিন্টু বেল্লাল মণ্ডলের সঙ্গে যোগ দেয়।”
অপরদিকে বেল্লাল মণ্ডলের বিরুদ্ধে বাঘা, চারঘাট, লালপুর ও ভেড়ামারা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান বলেন,

“মামলার আসামি মুজা সরদারকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে চরাঞ্চলে একাধিক বাহিনীর কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চালিয়ে পদ্মার চরাঞ্চলকে অস্ত্র ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট