মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৪, সিপিসি-১, জামালপুরের সফল অভিযানে মোবাইল কোর্ট কর্তৃক ১ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা কয়েদী আরিফুল মাওলা মামুন (৩৬)–কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল বেলায় শেরপুর সদর উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র্যাবের একটি চৌকস দল।
র্যাব-১৪ সূত্রে জানা যায়, মোবাইল কোর্ট মামলা নং–১৭০/২৪-এর অধীনে ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী নং–৮০৫০/এ মামুন রায় ঘোষণার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে র্যাব গোয়েন্দা ইউনিট মামুনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। তিনি শেরপুর জেলার গৌরিপুর এলাকার আজাহার আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকা বদলে বদলে গোপনে অবস্থান করছিলেন তিনি। র্যাবের হাতে ধরা না পড়তে তিনি কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থান বারবার পরিবর্তন করতেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে থাকতে পারেন।
কিন্তু র্যাব-১৪ এর সদস্যরা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল থেকে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর তাকে শনাক্ত করা হয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব। গ্রেফতারের সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলেও র্যাবের সদস্যরা পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে আটক করেন।
র্যাব জানায়, সাজাপ্রাপ্ত পলাতকদের গ্রেফতার করা তাদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। পলাতক আসামি ও দণ্ডপ্রাপ্তদের দ্রুত আটক নিশ্চিত করতে র্যাব সর্বদা কঠোর নজরদারি চালায়। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের মধ্যে আইনের প্রতি ভীতি বজায় থাকে।
অভিযানের পর গ্রেফতারকৃত মামুনকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শেরপুর জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়। র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর কর্তৃপক্ষ জানায় যে এ ধরনের পলাতক সাজাপ্রাপ্তদের গ্রেফতার অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা র্যাবের এ সফল অভিযানের প্রশংসা করে জানিয়েছে, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তরা অনেক সময় এলাকায় ভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা সমাজের জন্য হুমকি। তাই দ্রুত তাদের গ্রেফতার হওয়া জনসাধারণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতেও তারা অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, পলাতক আসামী গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে একইভাবে কাজ করে যাবে।
প্রসঙ্গত, মোবাইল কোর্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর পলাতক থাকা একটি গুরুতর অপরাধ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় র্যাব-১৪ এর এই ধরনের তৎপরতা এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সমাজে অপরাধমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।









