
পি. কে রায়, বিশেষ প্রতিনিধি (দিনাজপুর) | ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রলেরবাড়ি চরহোসেনপুর গ্রামের ইদ্রিস খন্দকারের ছেলে জুনায়েদ খন্দকার (২৪) এবং ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে মো. হিমেল (২২)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতারক চক্রটি দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার কাছে পুলিশ সুপারের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে। তারা হলেন: ১. দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সরকার। ২. দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া।
প্রতারকরা তাদের জানায় যে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়কে নতুন ‘পুলিশ বক্স’ স্থাপন করা হবে। এই কাজের ব্যয়ের কথা বলে কৌশলে বিকাশের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
পরবর্তীতে লেনদেন ও আচরণে সন্দেহ হলে ভুক্তভোগীরা সরাসরি পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর ও ময়মনসিংহ থেকে এই দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এই চক্রটি সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। এরা ব্যবসায়ী, রাজনীতিক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে ভয়ভীতি বা উন্নয়নের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে। সম্প্রতি দিনাজপুরের আরও কিছু এলাকায় তারা বড় ধরনের প্রতারণার ছক আঁকছিল।
এই ঘটনায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।