
হাবিবুর রহমান লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়। দুই মামলায় নামীয় ২৭ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মামলাটি করেছেন চরশাহী ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হেজবুল্লাহ। এই মামলায় বিএনপির ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে মামলাটি করেছেন একই ইউনিয়নের বিএনপি কর্মী কামাল হোসেন। তিনি জামায়াতের ১৭ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ জনকে আসামি করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) চরশাহী ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।
বিএনপির দাবি: জামায়াতের কর্মীরা ওই এলাকায় সাধারণ ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংগ্রহ করছিলেন। এ কাজে বাধা দিতে গেলে জামায়াত কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
জামায়াতের দাবি: জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন (আশরাফুল আলম) জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জামায়াতের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রচারণায় বিএনপি কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।