
পরিতোষ কুমার বৈদ্য, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা: “সবুজ বনই জীবনের ঢাল, সুন্দরবন বাঁচুক চিরকাল”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় নীলডুমুর ট্যুরিস্ট ঘাটে সুন্দরবন দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে উপকূলীয় জনপদের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও এক ডজন পরিবেশবাদী সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
বিশ্বজুড়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হলেও সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় মানুষের কাছে এটি বনকে ভালোবাসার দিন। বক্তারা বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও এই দিনটি এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি।
সমাবেশের সভাপতি ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, “সুন্দরবন কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রধান রক্ষাকবচ। এই বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখন আলাদা ‘সুন্দরবন মন্ত্রণালয়’ গঠন সময়ের দাবি।”
সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা বন্ধ, বন্যপ্রাণী নিধন রোধ এবং নদী-খালে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।
ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, উপকূলবাসীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সুন্দরবন সংরক্ষণ এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া জরুরি। ফেইথ ইন অ্যাকশনের প্রকল্প কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বৈদ্য সতর্ক করে বলেন, বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা না করলে উপকূলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চরম হুমকিতে পড়বে।
মানববন্ধনে ফেইথ ইন অ্যাকশন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স, হেড সংস্থা, কোডেক, এ.এল.আর.ডি, প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হেড সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন, কর্মসূচি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম অন্তর, প্রিন্স বিশ্বাস, জয়া বিশ্বাস, ইয়ুথ লিডার হৃদয় মন্ডল, সোনিয়া পারভিন, শাহনাজ পারভিন, কোডেক লিডার শামীম হোসেন, ভুক্তভোগী নারী সকিনা খাতুন ও হৈমী মন্ডল প্রমুখ।
বক্তারা বননির্ভর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় যুবসমাজকে পরিবেশ রক্ষায় সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।