
শাহিন হাওলাদার, বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় চরাদি ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদ খানকে (৩০) কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের হলতা গ্রামের সরদার বাড়ি এলাকায় এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ফাহাদ খান চরাদি ইউনিয়নের কামাল হোসেন খানের ছেলে। হামলার পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফাহাদ খান এক ভিডিও বার্তায় জানান, যুবলীগ কর্মী আরিফ খান, কাজী রিয়াজ এবং ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম রানাসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন তার ওপর হামলা চালায়। তার অভিযোগ:
হলতা বাজারের এক ডিস ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করায় তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন এবং থানায় মামলা করতে সহায়তা করেছিলেন।
অভিযুক্ত আরিফ ও রিয়াজ এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, যার বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সোচ্চার ছিলেন।
ফাহাদ আরও অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে বাকেরগঞ্জ থানার ওসির পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, কারণ হামলাকারীদের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন:
“ডিস ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে গত সপ্তাহে দুটি মামলা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ ধরেই এই হামলা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কাজী রিয়াজ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।”
ছাত্রদল নেতার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবিলম্বে সকল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।