
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর |প্রকাশিত: ২৪ মার্চ, ২০২৬
শেরপুর: শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গজনী গারো পাহাড়সহ সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে আগুন লাগানো রোধে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন। শুক্রবার (২০ মার্চ) দিনব্যাপী ‘হাতির খবর ও সচেতনতা গ্রুপ’-এর উদ্যোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়ক ও বনসংলগ্ন এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যানার স্থাপন ও মানববন্ধন করা হয়।
বন্যপ্রাণী ও বন রক্ষায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়— বিউটি অফ ঝিনাইগাতী, প্রশাখা, আপন শিক্ষা পরিবার, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম এবং গ্রিন ইনিশিয়েটিভ সিংগাবরুনা। স্থানীয় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়। নালিতাবাড়ীর পানিহাটা চার্চ এলাকা থেকে শুরু হয়ে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এই সচেতনতামূলক ব্যানারগুলো স্থাপন করা হয়।
শুষ্ক মৌসুমে গারো পাহাড়ের বনভূমি অত্যন্ত দাহ্য হয়ে ওঠে। ঝরা পাতা ও শুকিয়ে যাওয়া জলাধারের কারণে সামান্য আগুনেই ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে অসচেতনভাবে ফেলা সিগারেটের আগুন বা দুষ্কৃতিকারীদের দেওয়া আগুনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কর্মসূচির বিষয়ে ‘হাতির খবর ও সচেতনতা গ্রুপ’-এর সংগঠক রহমত আলী বলেন, “ঈদ মানে আনন্দ ভাগাভাগি করা। আমাদের এই আনন্দ যেন বনের প্রাণীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ না হয়। মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম মধুটিলার সভাপতি আরফান আলী এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে বলেন, “বনে আগুন লাগলে বন্যপ্রাণীর খাদ্যসংকট তৈরি হয়। ফলে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এবং মানুষ-হাতি সংঘাত বেড়ে যায়, যা উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক।”
সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজের প্রতিনিধি শাহরিয়ার হোসেন শাহপরান জানান, বনের আগুন পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত হানে। মাটির অণুজীব থেকে শুরু করে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী—সবাই এর শিকার হয়।
বিউটি অফ ঝিনাইগাতীর সভাপতি পারভেজ মিয়া এবং পরিবেশকর্মী ওয়াসিম মিয়া আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এমন সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বনের আগুন শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু ও মাটির উর্বরতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবী লিয়াকত হোসেন বলেন, “আমাদের বন আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। এটা এখন আমাদের দায়িত্বের জায়গা।”
আসন্ন ঈদের আনন্দ যেন প্রকৃতির জন্য আতঙ্কের কারণ না হয়, সেই বার্তাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।