
হাবিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে জমিতে সেচ দিতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ডিজেল ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, সেচনির্ভর এই মৌসুমে ধান গাছের পর্যাপ্ত বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত পানি প্রয়োজন। কিন্তু অনেক এলাকায় কৃষকরা সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বৈদ্যুতিক পাম্পগুলোও নির্ধারিত সময়ে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক ফসলি জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, যা ফলনে বিরূপ প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সময়মতো পানি না পেলে ধানের শীষ চিটা হয়ে যায়। সংকটের সুযোগে অনেক স্থানে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।
রামগঞ্জের কৃষক শামসুল আলম ও হেল্লাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আগে নির্দিষ্ট দামে সহজেই ডিজেল পাওয়া যেত। এখন কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়েও সময়মতো তেল পাচ্ছি না। একদিকে বিদ্যুতের লুকোচুরি, অন্যদিকে তেলের সংকট—আমাদের চাষাবাদ এখন হুমকির মুখে।”
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে মোট ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের সেচ সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার এবং সেচের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, বোরো মৌসুমের বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে দ্রুত সুলভ মূল্যে ডিজেল এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক।