
মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ইভটিজিংয়ের অভিযোগে চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তিন বহিরাগত যুবককে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্লাস চলাকালীন সময়ে কয়েকজন বহিরাগত যুবকের সন্দেহজনক উপস্থিতি ও ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে তিন বহিরাগতকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেনবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একই ঘটনায় বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
আটককৃত যুবকেরা হলেন— ১. মেহেদী হাসান দুলাল (১৭), পিতা: সোলেমান, গ্রাম: পশ্চিম চাঁদপুর। ২. আবু ইউছুপ ফাহিম (১৮), পিতা: নূরের জামান, গ্রাম: পশ্চিম চাঁদপুর। (নোট: মূল তথ্যে ৩ জন যুবকের কথা উল্লেখ থাকলেও ২ জনের নাম পাওয়া গেছে)
বহিষ্কৃত ছাত্রীরা হলেন— ১. মমিতা ইসলাম (১৪), পিতা: মো: ইসমাইল হোসেন, গ্রাম: বিন্নাগুনী (চৌকিদার বাড়ি)। সে ৮ম শ্রেণীর ‘ক’ শাখার ৩৯ নং রোলের শিক্ষার্থী। ২. সুমাইয়া আক্তার প্রীতি, পিতা: নাজির আহম্মেদ, গ্রাম: বিন্নাগুনী (হাজী বাড়ি)। সে ৮ম শ্রেণীর ‘খ’ শাখার ৯০ নং রোলের শিক্ষার্থী। তারা সবাই সেনবাগ থানার বাসিন্দা।
এই ঘটনার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য: এ বিষয়ে চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোক্তার হোসেন ইকবাল বলেন, “আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ইভটিজিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেনবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।”
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।