
মুহাম্মদ আবু হেলাল, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ঝিনাইগাতী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ও আটক: সংঘর্ষে আহতরা হলেন— উপজেলার মোল্লাপাড়া এলাকার ওয়াসিমের ছেলে রিয়াদ (১৮), বাদশা মিয়ার ছেলে বন্ধন (১৯) এবং বালিয়াচন্ডি এলাকার আব্দুল সবুরের ছেলে ইমরান (২০)। এদের মধ্যে রিয়াদ ও বন্ধনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বালিয়াচন্ডি এলাকার রাতুল ও ইমরানকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে বালিয়াচন্ডি ও মোল্লাপাড়া এলাকার একদল যুবকের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। বুধবার বিকেলে মডেল পাইলট স্কুল এলাকায় উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং অন্তত তিনজন রক্তাক্ত জখম হন।
পুলিশের বক্তব্য: ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এলাকায় আতঙ্ক: প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনাকীর্ণ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং কিশোর গ্যাং বা বখাটেদের দৌরাত্ম্য কমাতে নিয়মিত পুলিশি টহলের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।