
মোঃ আমজাদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জয়পুরহাটে এক ব্যতিক্রমী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে জেলার তেঘর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জয়পুরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠকে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জয়পুরহাট জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ওমর আলী বাবু। তিনি তার বক্তব্যে একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “একটি সমাজ তখনই আদর্শ হিসেবে গড়ে ওঠে, যখন সেখানে নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদা নিশ্চিত হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের আরও এগিয়ে নিতে হবে। এটি কেবল দাপ্তরিক কাজ নয়, বরং আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত নারীর প্রতি সম্মানবোধ বৃদ্ধি এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকটি কেবল আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছিল জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও ত্যাগের এক মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মেহেদির পরিবারের সদস্যরা। তাদের উপস্থিতি বৈঠকে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। বক্তারা শহীদদের স্বপ্ন পূরণে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন:
সৈয়দ আহমদুল্লাহ শাকিল, জেলা আহ্বায়ক, জাতীয় ছাত্র শক্তি।
রাকিবুল হাসান রকি, জেলা আহ্বায়ক, ওয়ারিয়র্স অব জুলাই।
মুকুল হোসেন ও শাহনাজ পারভীন, সদস্য, এনসিপি জেলা কমিটি।
বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে উঠান বৈঠক একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরতলী এলাকার নারীদের আইনগত অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কুসংস্কার দূরীকরণে এ ধরনের কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, রাজনীতির প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে এ ধরনের আলোচনা তাদের সচেতন করতে সাহায্য করবে। এনসিপি নেতৃবৃন্দ জানান, জেলার প্রতিটি এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে যাতে একটি সুস্থ ও বৈষম্যমুক্ত জয়পুরহাট গড়ে তোলা সম্ভব হয়। অনুষ্ঠানের শেষে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।