
মাহফুজুর রহমান সাইমন, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আশরাফুল ইসলাম (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার খরিয়াকাজীরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলার মাদারপুর এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিনের সাথে একই এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলামের দীর্ঘদিন যাবত জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মে শনিবার রাতে নুরুল আমিন মেম্বার তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়। ওই সময় তারা পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং একটি ভ্যানগাড়িসহ বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
ওই ঘটনার জের ধরে আজ সোমবার সকালে পুনরায় আশরাফুল ইসলাম ও নুরুল আমিন মেম্বারের লোকজনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রে রূপ নেওয়া এই সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলামসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে আশরাফুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের সমর্থকরা পাল্টা আঘাত হিসেবে ইউপি সদস্য নুরুল আমিনের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদারপুর এলাকার মাহালম (৪৫), শরিফ (১৮), শামিম (২৮), নজরুল (১৮), আজিরন (৮০) ও হাজেরাসহ অন্তত ১৫ জন। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোফাজ্জল হোসেন বিদ্যুৎ গণমাধ্যমকে বলেন, “সোমবার সকাল ১১টার দিকে মারামারির ঘটনায় বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে আশরাফুল নামে একজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। এছাড়া গুরুতর আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আর বাকি দু’জন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর মাদারপুর গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে শ্রীবরদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞাঁ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে দু’পক্ষের মারামারিতে একজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”