
মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার (পঞ্চগড়) | অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের আগে রোগীর গলা থেকে খোলা প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নার্সের দাবি, চেইনটি তাঁর কাছে রাখা হলেও পরে সেটি হারিয়ে গেছে এবং বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার উত্তর দর্জিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনার রহমানের স্ত্রী রূপালী বেগম প্রসববেদনা নিয়ে গত ৩ জুন সকালে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর চিকিৎসকের নির্দেশে রূপালী বেগমের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন খুলে রাখতে বলা হয়। এ সময় থিয়েটারে দায়িত্ব পালনরত নার্স আলিফা নূরা চেইনটি নিজের জিম্মায় রাখেন।
অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর রোগীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হলে তাঁর স্বামী চেইনের বিষয়ে জানতে চান। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে ওই নার্স চেইনটি নিজের কাছে থাকার কথা স্বীকার করলেও পরে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, চেইনটি হারিয়ে গেছে। ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও চেইনটি উদ্ধার বা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
ভুক্তভোগী রূপালী বেগম বলেন:
“অপারেশনের আগে আমার গলায় থাকা প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন নার্সের কাছে রাখা হয়েছিল। অপারেশনের পর সেটি ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। পরে বলা হয় চেইনটি হারিয়ে গেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, চেইন উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স আলিফা নূরা নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “রূপালী বেগম আমার আত্মীয় (ভাগ্নি) হন। অপারেশনের আগে তিনি চেইনটি আমার কাছে দিয়েছিলেন। আমি সেটি পকেটে রেখেছিলাম। পরে খুঁজে না পেয়ে বুঝতে পারি চেইনটি হারিয়ে গেছে। তবে আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলেছি।”
নোট: ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে এই প্রতিবেদনে যুক্ত বা আপডেট করা হবে।