
মনিরুজ্জামান লিমন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:
অবশেষে দীর্ঘ দুই মাস পর নিজ পরিবার ও বাড়িতে ফিরলেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকা সেই বৃদ্ধ। ধানুয়া কামালপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর উদ্ধার হওয়া ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে (৬৮) আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বকশীগঞ্জ থানা চত্বরে বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে তাকে পরিবারের নিকট সোপর্দ করা হয়।
ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনের হাতে তাকে তুলে দেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন এবং জামালপুর ৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেন। এ সময় ধানুয়া কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান লাকপতিসহ বিজিবি-পুলিশের কর্মকর্তা ও বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া ভাইকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার ছোট ভাইসহ স্বজনেরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। তিনি কীভাবে বা কোন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা কিছুই জানাতে পারেননি।
এর আগে, গত বুধবার (১০ জুন) সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের পাশ দিয়ে এই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় সীমান্তবাসীর তীব্র বাধার মুখে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পুশইন করতে না পেরে বিএসএফ তাকে শূন্য রেখায় ফেলে রেখে চলে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দিনভর তীব্র উত্তেজনা ও টানটান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা নির্ঘুম কাটানোর পর, বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি তাকে উদ্ধার করে মানবিক কারণে থানা হেফাজতে পাঠায়।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৃদ্ধের ছবি ও আটকা পড়ার খবর দেখে পরিবার তার সন্ধান পায় এবং বকশীগঞ্জ থানায় ছুটে আসে।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বিজিবি সীমান্ত থেকে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সকালে থানায় সোপর্দ করেছিল। আমরা তার পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর আইনি সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে তাকে তার ছোট ভাইয়ের জিম্মায় হস্তান্তর করেছি। দুই মাস পর আপনজনকে ফিরে পেয়ে পরিবারটির মুখে হাসি ফুটেছে, এটিই আমাদের বড় সার্থকতা।”