
মনিরুজ্জামান লিমন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জের গোপালপুর গ্রাম থেকে গত সাত দিন ধরে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবার সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর একজন গোপালপুর কো-অপারেটিভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আফসানা আক্তার (১৩)। সে স্থানীয় মো. আল আমিনের মেয়ে। অপরজন স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আশা মনি (১১), সে মো. এরশাদ আলীর মেয়ে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ওই দুই ছাত্রী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। এরপর থেকেই তাদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আত্মীয়-স্বজনসহ পরিচিত সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় নিখোঁজ আফসানা আক্তারের বাবা মো. আল আমিন বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মেয়ের নিখোঁজ সংবাদে কান্নায় ভেঙে পড়ে আফসানা আক্তারের বাবা মো. আল আমিন বলেন, “আমার মেয়ে ১৭ জুন বিকেল থেকে নিখোঁজ। আমরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু কোথাও তাদের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। গত সাতটি দিন আমাদের ওপর দিয়ে যে কী মানসিক যন্ত্রণা যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা না পাওয়ায় আমরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছি। আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই, তারা যেন দ্রুত আমার মেয়ে ও তার সঙ্গীকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।”
এদিকে, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরেও নিখোঁজদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিখোঁজ দুই ছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে আসার পর ইতিমধ্যেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অবস্থান শনাক্ত করতে আমরা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছি এবং পুলিশে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”