1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নালিতাবাড়ীতে পিকআপভর্তি ২৭৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, গ্রেফতার ৩ নীলফামারী জেলার শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড নির্বাচিত হলেন ডিমলার রওশন কবির ঝিনাইগাতীতে স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন জোরদারে এমসিজিএলের ফান্ড মোবিলাইজেশন সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার ও সনদ বিতরণ মধুপুরে কারিতাসের দিনব্যাপী কৃষি ও খাদ্য বৈচিত্র্য মেলা অনুষ্ঠিত মধুপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ মধুপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ জলঢাকায় চাহিদার অর্ধেক মিলছে বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ডিমলায় পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত, কৃষি প্রযুক্তি প্রসারে নতুন প্রত্যাশা

নালিতাবাড়ীতে সুদের টাকার জন্য প্রতিবেশীর বাড়িঘর ভাঙচুর, খতিব দম্পতিসহ চারজন গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সুদের টাকার জন্য প্রতিবেশীর বাড়িঘর ভেঙে নেওয়ার ঘটনায় খতিব দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সুদের টাকার জন্য প্রতিবেশীর বাড়িঘর ভেঙে নেওয়ার ঘটনায় খতিব দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, নালিতাবাড়ী (শেরপুর):
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সুদের টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় প্রতিবেশীর বাড়িঘর ভেঙে লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক খতিব ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ দাদন ব্যবসায়ী সুফিয়া বেগম (৪০) ও তার স্বামী মসজিদের খতিব আমানুল্লাহ মুন্সিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের জামিরাকান্দা রাবারড্যাম রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ রিতা বেগম প্রতিবেশী সুফিয়া বেগমের কাছ থেকে মাসিক ১০ শতাংশ সুদে এক লাখ টাকা ধার নেন। নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি আসল টাকার অর্ধেক (৫০ হাজার টাকা) ফেরত দেন তিনি। এরপরও সুফিয়া বেগম প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত সুদ দাবি করে আসছিলেন।

রিতা বেগম টাকা জোগাড়ের জন্য ঢাকায় স্বামীর কাছে গেলে সুফিয়া বেগম, তার স্বামী খতিব আমানুল্লাহ মুন্সি ও সহযোগী খাদিজা বেগম (২৬), বাবুল মিয়া (২১) এবং নয়ন মিয়া (১৯) বাড়িতে গিয়ে লুটপাট চালায়। তারা শ্রমিক ভাড়া করে রিতার ঘরের টিন, দরজা, জানালা, কাঠ, খুঁটি, নলকূপ এমনকি রান্নাঘরের চুলা পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সময় আশপাশের মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলেও অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে রিতা বেগম ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙচুরের চিহ্ন ও লুট হওয়া জিনিসের প্রমাণ সংগ্রহ করে। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে খতিব দম্পতিসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।

ভুক্তভোগী রিতা বেগম বলেন,

“আমি নিয়মিত টাকা দিচ্ছিলাম, কিন্তু তারা আরও বেশি টাকা চাইছিল। ঢাকায় যাওয়ার সুযোগে তারা আমার ঘরবাড়ি সব নিয়ে গেছে। এখন আমার থাকার জায়গা পর্যন্ত নেই।”

স্থানীয়দের দাবি, সুফিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাদন ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। অসহায় মানুষদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে সুযোগ বুঝে তাদের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছেন।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন,

“রিতা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট