1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাটখিলে মরণফাঁদ শতবর্ষী সেতু: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের ইরানের সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে ওয়াশিংটন; ইসলামাবাদ সফরের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প শ্রীপুরে প্রেমের অভিমানে যুবকের আত্মহনন, ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার শেরপুর পুলিশ লাইন্স একাডেমিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত জমকালো আয়োজনে ‘দৈনিক আজকালের কণ্ঠ’র ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নালিতাবাড়ীতে ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব’ শীর্ষক পাঠচক্র অনুষ্ঠিত শেরপুরে ২০ এপ্রিল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু বাকেরগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও দোয়া মাহফিল রাজশাহীতে র‍্যাবের অভিযানে ৪১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার বকশীগঞ্জে ১২৫০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

পুরুষের তুলনায় নারীরা পান অর্ধেক পারিশ্রমিক: নীলফামারীতে নারী শ্রমিকদের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারীর মাঠে ধান রোপণে ব্যস্ত নারী কৃষি শ্রমিকরা
নীলফামারীর জলঢাকার মাঠে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ধান রোপণ করছেন নারী কৃষি শ্রমিকরা — ছবি: সংগৃহীত

মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। জাতীয় উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু অবদান রাখলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা এখনও পারিশ্রমিক বৈষম্যের শিকার — এমন চিত্র উঠে এসেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মাঠঘাটে।


  নারীর পরিশ্রম, কিন্তু মজুরি অর্ধেক

জলঢাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি শ্রমে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। দারিদ্র্যপীড়িত ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর নারীরা অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তারা পান না সমান মজুরি।

কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক তাহেরা বলেন,

“আমরা গরীব মানুষ, জমি নেই। তাই অন্যের জমিতে ধান লাগানো, আগাছা পরিষ্কার, কাটা–মাড়াই সব কাজ করি। কিন্তু পুরুষ যেখানে দিনে ৪০০ টাকা পায়, আমরা পাই মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।”

ডাউয়াবারী ইউনিয়নের চরভরট পাড়ার রানী বলেন,

“ধান লাগানো থেকে শুরু করে মাড়াই—সব কাজ করি। কিন্তু মজুরি কম পাই। এটা খুব অন্যায়।”


  রোদ-বৃষ্টিতে পরিশ্রম, তবু অবমূল্যায়ন

শৌলমারী ইউনিয়নের বানপাড়ার মায়া বলেন,

“রোদ-বৃষ্টিতে কাজ করি, কিন্তু শরীর সুস্থ থাকে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কষ্ট সহ্য করে কৃষিতে টিকে আছি। তবু আমাদের মজুরি কম।”

কৈমারী ইউনিয়নের বাধ এলাকার রাহেলা জানান,

“আমাদের পরিশ্রমে হাজার হাজার একর জমিতে ফসল হচ্ছে। তবুও আমাদের অবদান কেউ মূল্যায়ন করে না।”


 পুরুষ শ্রমিকদেরও স্বীকৃতি

গাবরোল টগরার ডাঙ্গা এলাকার পুরুষ শ্রমিক সোবহান বলেন,

“এ এলাকার কৃষি উৎপাদনে নারী শ্রমিকরা পুরুষদের সমান অবদান রাখছে।”

স্থানীয় কৃষক কনক বলেন,

“নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি কৃষি কাজেও দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছেন। নিজেরাও জমিতে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”


  নায্য মজুরির দাবি

স্থানীয় নারীরা বলেন, তারা এ অঞ্চলের জঙ্গল পরিষ্কার করে ফসলি জমিতে পরিণত করেছেন। সেই জমিতে ধানসহ সব ফসল উৎপাদনে নারীরাই মূল ভূমিকা রাখছেন।

তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান —
নারীদের কৃষি শ্রমিক হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং পুরুষের সমান ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট