1. info@www.newsgrambangla.com : নিউজ গ্রামবাংলা :
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চিরিরবন্দরে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন: প্রকৃত কৃষকদের ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ সংস্কার না হলে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি বন্ধ হবে না: তেঁতুলিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী শেরপুরে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত রাণীনগর উপজেলা পরিষদে নতুন পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন গাজীপুরে মদ ভেবে মিথানল পান: দুই তরুণের মৃত্যু, একজন হাসপাতালে রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীতে মহিষ গোসল করাতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু পঞ্চগড়ে সার নিয়ে কারসাজি করলে আইনের হাতে তুলে দিন: প্রতিমন্ত্রী নান্দাইলে ভাড়াটিয়া গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা: বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা, হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাঁচবিবিতে গাভী বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ডা. জরিফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি আকরামুল, সম্পাদক শাকিল

পুরুষের তুলনায় নারীরা পান অর্ধেক পারিশ্রমিক: নীলফামারীতে নারী শ্রমিকদের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারীর মাঠে ধান রোপণে ব্যস্ত নারী কৃষি শ্রমিকরা
নীলফামারীর জলঢাকার মাঠে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ধান রোপণ করছেন নারী কৃষি শ্রমিকরা — ছবি: সংগৃহীত

মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। জাতীয় উন্নয়নে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু অবদান রাখলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা এখনও পারিশ্রমিক বৈষম্যের শিকার — এমন চিত্র উঠে এসেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মাঠঘাটে।


  নারীর পরিশ্রম, কিন্তু মজুরি অর্ধেক

জলঢাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি শ্রমে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। দারিদ্র্যপীড়িত ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর নারীরা অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তারা পান না সমান মজুরি।

কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক তাহেরা বলেন,

“আমরা গরীব মানুষ, জমি নেই। তাই অন্যের জমিতে ধান লাগানো, আগাছা পরিষ্কার, কাটা–মাড়াই সব কাজ করি। কিন্তু পুরুষ যেখানে দিনে ৪০০ টাকা পায়, আমরা পাই মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।”

ডাউয়াবারী ইউনিয়নের চরভরট পাড়ার রানী বলেন,

“ধান লাগানো থেকে শুরু করে মাড়াই—সব কাজ করি। কিন্তু মজুরি কম পাই। এটা খুব অন্যায়।”


  রোদ-বৃষ্টিতে পরিশ্রম, তবু অবমূল্যায়ন

শৌলমারী ইউনিয়নের বানপাড়ার মায়া বলেন,

“রোদ-বৃষ্টিতে কাজ করি, কিন্তু শরীর সুস্থ থাকে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কষ্ট সহ্য করে কৃষিতে টিকে আছি। তবু আমাদের মজুরি কম।”

কৈমারী ইউনিয়নের বাধ এলাকার রাহেলা জানান,

“আমাদের পরিশ্রমে হাজার হাজার একর জমিতে ফসল হচ্ছে। তবুও আমাদের অবদান কেউ মূল্যায়ন করে না।”


 পুরুষ শ্রমিকদেরও স্বীকৃতি

গাবরোল টগরার ডাঙ্গা এলাকার পুরুষ শ্রমিক সোবহান বলেন,

“এ এলাকার কৃষি উৎপাদনে নারী শ্রমিকরা পুরুষদের সমান অবদান রাখছে।”

স্থানীয় কৃষক কনক বলেন,

“নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি কৃষি কাজেও দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছেন। নিজেরাও জমিতে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”


  নায্য মজুরির দাবি

স্থানীয় নারীরা বলেন, তারা এ অঞ্চলের জঙ্গল পরিষ্কার করে ফসলি জমিতে পরিণত করেছেন। সেই জমিতে ধানসহ সব ফসল উৎপাদনে নারীরাই মূল ভূমিকা রাখছেন।

তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান —
নারীদের কৃষি শ্রমিক হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং পুরুষের সমান ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট